মূল গাইড

বাংলাদেশে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সম্পূর্ণ গাইড (২০২৬)

হালনাগাদ: 2026-08-02 পড়তে সময়: ~2 মিনিটReading time: ~2 min লেখক: e-Return.org টিমAuthor: e-Return.org Team

বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক রিটার্ন দাখিল এখন প্রায় সকল ব্যক্তি করদাতার জন্য বাধ্যতামূলক। NBR-এর আদেশ নং ০১/২০২৫ (জারি: ৪ আগস্ট ২০২৫) অনুযায়ী ২০২৬-২৭ কর বছরের জন্য যোগ্য করদাতাদের e-Return-এর মাধ্যমে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এই গাইডে আমরা পুরো প্রক্রিয়াটি এক জায়গায় সাজিয়ে দিয়েছি — কে দাখিল করবেন থেকে শুরু করে দাখিলের পরের ধাপ পর্যন্ত।

রিটার্ন দাখিল এখন বাধ্যতামূলক — কেন?

NBR-এর মূল লক্ষ্য কর আদায় প্রক্রিয়া ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করা। ইলেকট্রনিক দাখিলের ফলে কাগজে রিটার্ন জমার ঝামেলা নেই, দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ হয় এবং কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য সংগঠিত থাকে। ফলে আজ প্রায় সব যোগ্য ব্যক্তিকেই e-Return দাখিল করতে হয়।

প্রথম ধাপ: TIN ও নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর

রিটার্ন দাখিলের আগে আপনার একটি TIN (ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) এবং আপনার নামে বায়োমেট্রিক-ভেরিফাইড একটি সিম নম্বর থাকতে হবে। TIN না থাকলে আগে e-TIN নিবন্ধন সম্পন্ন করুন। TIN-এর তথ্য NID-এর সাথে মিলিয়ে রাখুন — নাম বা জন্মতারিখের অমিল পরে জটিলতা তৈরি করে।

দ্বিতীয় ধাপ: e-Return অ্যাকাউন্টে নিবন্ধন

etaxnbr.gov.bd-তে গিয়ে “I am not registered yet” নির্বাচন করুন, TIN ও মোবাইল নম্বর দিন, OTP যাচাই করুন এবং পাসওয়ার্ড সেট করুন। পুরো নিবন্ধন মাত্র কয়েক মিনিটের কাজ। বিস্তারিত ধাপগুলো আমাদের ই-রিটার্ন গাইডে আছে।

তৃতীয় ধাপ: ৭ ধাপে রিটার্ন দাখিল

লগইনের পর রিটার্ন সাতটি ধাপে সম্পন্ন হয়: অ্যাসেসমেন্ট (বছর নির্বাচন) → আয় (সব উৎসের আয়ের বিবরণ) → রেয়াত (বিনিয়োগের রেয়াত) → ব্যয় (পারিবারিক ব্যয়) → সম্পদ ও দায়কর ও পরিশোধরিটার্ন প্রিভিউ (যাচাই করে জমা)। প্রতিটি ধাপের বিবরণ এখানে

চতুর্থ ধাপ: দাখিলের প্রমাণ রাখুন

জমা দেওয়ার পর পোর্টাল থেকে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র (acknowledgment) ডাউনলোড করে রাখুন। এটি আপনার দাখিলের প্রমাণ। ভবিষ্যতে কোনো জিজ্ঞাসা বা ভিসা/ব্যাংক আবেদনে এই রসিদ কাজে লাগে।

সময়সীমা ও জরিমানা

আইনগত সময়সীমা সাধারণত প্রতি বছরের ৩০ নভেম্বর, তবে NBR প্রায় প্রতি বছরই এটি বাড়িয়ে থাকে। সময়মতো দাখিল না করলে গত বছরের নির্ধারিত করের ১০% (ন্যূনতম ৳১,০০০) জরিমানা হতে পারে, সাথে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৳৫০ যোগ হতে থাকে। সর্বশেষ ঘোষিত সময়সীমা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ — বিস্তারিত আমাদের সময়সীমা নিবন্ধে

নিজে করবেন নাকি পেশাদারের কাছে?

সাধারণ বেতনভুক্ত চাকরিজীবী ও এক উৎসের আয় থাকলে নিজে দাখিল সম্ভব। কিন্তু একাধিক আয়ের উৎস, ব্যবসা, বৈদেশিক আয় বা আগের কোনো জটিলতা থাকলে একজন পেশাদারের সাহায্য ভুল এড়ায় এবং সময় বাঁচায়। পার্থক্য নিয়ে বিস্তারিত: নিজে নাকি পেশাদার?

দাখিলে সাহায্য লাগছে?Need Help Filing?

আপনার পরিস্থিতি শুনে আমরা বিনামূল্যে পরামর্শ ও সুনির্দিষ্ট কোটেশন দিই। একটি বার্তাই যথেষ্ট।Tell us your situation and get free advice plus a specific quote. One message is all it takes.

সাধারণ প্রশ্ন

রিটার্ন দাখিল করতে আমার TIN না থাকলে কী করব?

প্রথমে e-TIN নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে — এটি e-Return নিবন্ধনের আলাদা, আগের ধাপ। TIN সেবায় আমাদের সহায়তা নিতে পারেন।

প্রতি বছর কি রিটার্ন দাখিল করতেই হবে?

বেশিরভাগ যোগ্য করদাতার জন্য হ্যাঁ — আয় করমুক্ত সীমার ওপরে হলে বা অন্য কোনো বাধ্যবাধকতা থাকলে প্রতি বছর দাখিল করতে হয়।

দাখিলের পর রসিদ হারিয়ে গেলে কী করব?

NBR e-Return পোর্টালে লগইন করে আগের রিটার্ন ও রসিদ আবার ডাউনলোড করা যায়।

আরও পড়ুন

সম্পর্কিত নিবন্ধRelated Articles

Scroll to Top